একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি লেখক গবেষক আবীর আহাদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র ক্লাবে যারা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আড্ডার পাশাপাশি নানান অসামাজিক কার্যকলাপ করে গোটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ওপর কলঙ্ক লেপনসহ অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন ।
আজ এক বিবৃতিতে আবীর আহাদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের নাম ভাঙিয়ে সুদূর অতীত থেকে অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী ঐসব অবৈধ মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আড্ডা থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা পেতেন বলে প্রবল জনশ্রুত আছে । কীভাবে কাদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম করে ক্রীড়াচক্র ক্লাবটি পরিচালিত হয়ে আসছে তা একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলতে পারে । মূলত: ক্লাবের নামে ঐসব ঘৃণ্য ব্যবসা থেকে প্রতিদিন যে আয় হয়, তার সামান্যই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের একাউন্টে জমা হয়, বাকি সিংহভাগ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহীদের পকেটস্থ হয় বলে জানা যায় । এ-জন্যই, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের এ লাভজনক চেয়ারে বসার জন্য অতীত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ঐ চেয়ারখানি পুনরায় ফিরে পেতে যারপরনাই তৎপর !
আবীর আহাদ বলেন, যেখানে দেশের সিংহভাগ বীর মুক্তিযোদ্ধারা অর্থের অভাবে ছেলেমেয়েদের তেমন লেখাপড়া করাতে পারেননি, অর্ধাহারে-অনাহারে থাকেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, রোগেশোকে চিকিৎসা নিতে পারেন না—–সেই দেশের কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা নামধারী অমানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ক্লাব চালিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ অবৈধ অর্থ উপার্জন করে সীমাহীন বিলাসিতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে ! মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের অতীতের কর্ণধাররা শুধু মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর থেকে অর্থ উপার্জন করেই ক্ষান্ত হননি, তাদের নেতৃত্বে তাদেরই বশংবদ ‘জেলা-উপজেলা কমান্ডার সিন্ডিকেট’ লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে ভাগ বসানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের মহাযজ্ঞ সৃষ্টি করেছেন । মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ঐসব কর্ণধাররা সংগত:কারণে তাই ভুয়ামুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার কথা বলেন না, মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও তাদের জীবনের নিরাপত্তাসহ তাদের উন্নত আর্থসামাজিক জীবন ব্যবস্থার দাবি নিয়ে একটি কথাও বলেন না ! কারণ তারা তো নিজেরাই উন্নত জীবন যাপন করছেন—-ফলে আম-মুক্তিযোদ্ধার কল্যাণ তাদের কাম্য নয় ।
আবীর আহাদ বলেন, আমার শক্তি ক্ষীণ হলেও আমি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ব্যানারে মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভুয়ামুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকাসহ তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও উন্নত আর্থসামাজিক জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য আজ কয়েক বছর যাবত ধারাবাহিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি ।
পরিশেষে আবীর আহাদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত রাঘব বোয়াল এবং আশি/পঁচাশি হাজার অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কারিগরদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
© All rights reserved 2000-2025 © kalerchaka.Com
Leave a Reply