বাঁশ কাব্য (রম্য)–রিয়াজ মুস্তাফিজ
পৃথিবীতে যত সমস্ত রীতিপ্রথা চালু আছে, তার মধ্যে সব চেয়ে বাঁজে এবং ঘৃনীত প্রথা হচ্ছে বাঁশ প্রথা। ইহা স্থান কাল পাত্র ভেদে প্রায় একই রকম হয়। অতি প্রাচীন কাল থেকেই বাঁশ আদান প্রদানের প্রচলন রহিয়াছে। ধর্ম বর্ণ গোত্র শ্রেনীভেদে বাঁশ গ্রোথিত হইয়া থাকে।
এই বাঁশ প্রথাকে কেউ বাগানের ঝাড়ের বাঁশ ভাববেন না। ইহা পেছন থেকে মানুষের ক্ষতি সাধন করিবার রুপক নাম মাত্র। সমাজের এক শ্রেনীর বিখাউজ প্রকৃতির, অপদার্থ, কান্ডজ্ঞানহীন মনুষ্য প্রানীরাই এই কার্য করিয়া থাকে। তাহারা অন্যর সুখ অসুখ দুই সময়ে বাঁশ ভরিয়া দেয়। সব চেয়ে বেশি বাঁশ প্রদান ঘটিয়া থাকে মনুষ্য প্রানী কুলের অসহায় সময়ে। কেউ কেউ আবার সরাসরি পশ্চাদে বাঁশ মারিয়া থাকেন। এ বাঁশে কঞ্চি থাকিতে পারে আবার নাও পারে। এ পর্যন্ত তেল সহ বাঁশ দিতে কাউকে দেখা যায়নি।
তবে কথা হচ্ছে যাদের বাঁশ খাওয়ার সহ্য ক্ষমতা আছে, তাদেরকেই বাঁশ দেওয়া উচিৎ। বিখাউজ দূষিত রক্তের মানুষেরা অন্য মানুষের সুখে থাকা বা ভাল থাকা সহ্য করিতে না পেরে বাঁশ প্রথার ব্যবহার করিয়া থাকেন। ঠিক কবে থেকে বাঁশ প্রথার প্রচলন ঘটিয়াছিল, তা নিয়ে যথেষ্ঠ গবেষনার প্রয়োজন রহিয়াছে।
আমাদের মধ্যে যে হারে বাঁশ দেওয়া নেওয়া হইতেছে, তাহাতে অদুর ভবিষ্যতে দেশে “বাঁশ দিবস” পালন করিতে হইবে। আর সে দিবসের প্রতিপাদ্য হইবে- বাঁশ দিন, বাঁশ নিন। সুস্থ্য থাকুন। দেশীয় বাঁশ ব্যবহার করুন। অর্থনীতি সচল রাখুন।
রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক সহ সকল ক্ষেত্রেই বাঁশের তুমুল ব্যবহার রহিয়াছে। প্রেমিক বা প্রেমিকাও ভালবাসাবাসির পরিবর্তে বাঁশাবাঁশিতে লিপ্ত হইয়া পড়ে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ এক ঝাড় বাঁশ ভরিয়া দেয়। ফলশ্রুতিতে পবিত্র ভালবাসা বাঁশান্বিত হইয়া যায়।
বাঁশ থাকে ঝাড়ে
আমি বাঁশ দেবো কারে?
ভয় পাইবার কিছু নাই। আমি যদি আপনাকে বাঁশ দিয়া থাকি, তা হইলে ভবিষ্যতে আমার জন্যেও ঝাড় সমেত বাঁশ রেডি থাকিবে। আপনিও যদি কারো অসহায়ত্বের সুযোগে বাঁশ চালান দিয়ে থাকেন, তা হইলে প্রস্তুত থাকেন, বাঁশ আসিতেছে।
ইহা ধ্রুব সত্য ও প্রমানীত। প্রকৃতির প্রতিশোধ বড় ভয়ানক হইয়া থাকে! শেষে একটি কথা বলিয়া যাই।
জন্মিলে মরিতে হইবে
আর বাঁশ দিলে?
(লেখনীতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রন থাকিতে পারে, ইহা সময়ের অভাব জনিত দূষন এবং অলষ মস্তিষ্কের আজাইড়া কাজ মাত্র। আর লেখার কিছু কথা কারো সাথে মিলিয়া গেলে, তা নিতান্তই অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র, এ জন্যে লেখক দায়ী নয়)
© All rights reserved 2000-2025 © kalerchaka.Com
Leave a Reply