কাজী আব্দুল আজিম (সুমন), বিশেষ প্রতিনিধি
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘মাদকমুক্ত যুবসমাজ বিনির্মাণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টায় সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সার্ক হিউম্যান রাইটস ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হক। তিনি নব উজ্জীবিত বাংলাদেশ সমাজের সভাপতি এবং সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিলদার বখত। উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হামিদা খানম। প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাউলদৌলা চৌধুরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক খাবিরা আখতার পারভিন, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী, কবি শিহাব রিফাত আলম, স্বপন আহমেদ, সাংবাদিক মিলন মল্লিক, শেখ মোঃ শাহ কামাল (শ্যামল)সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আইন অঙ্গনে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোঃ হাবিবুল হক বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথে পরিচালিত করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন অঙ্গনে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, মানবিক ও সৃজনশীল বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।