Dhaka 12:54 pm, Friday, 4 September 2026
নোটিস :
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি নাটকীয়তার পর সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা: ১৪ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে থাকছে সরকারি ছুটি জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি
শিরোনাম
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুম কি ক্ষতিকর? চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি বগুড়া জেলা জাসাস কতৃক আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন তুরাগে ৪৪২ মোবাইল, প্রায় ৯ লাখ টাকা ও যন্ত্রাংশসহ চোরাচালান চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা রাজধানীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

একজন সংগ্রামী নারীর ইতিকথাঃ কেক ও পিঠার রাজ্যের মহারানী মিতু

একজন সংগ্রামী নারীর ইতিকথাঃ কেক ও পিঠার রাজ্যের মহারানী মিতু

(মুনেম সরকার, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর ) : সাদিয়া নাসরিন মিতুকে অনেকেই চেনেন ‘ডেজার্ট এক্সপার্ট’ হিসেবে। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী ২০০৬ সালেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় সাদিয়াকে। পাঠ বিরতির কবলে পড়েন। চার বছরের বিরতির পর ঘুরে দাড়ান এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন এসএসসি পরিক্ষার জন্য। সাফল্যও আসে। ভর্তি হন স্বামীর কর্মস্থল চট্রগ্রামের পটিয়া কলেজে। তবে ঘরকন্নার পাশাপাশি পড়াশোনা করে চলতি বছরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শুধু পড়াশোনা নয়, তিনি নানা ধরনের দেশি পিঠা তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেছেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

সাদিয়ার বাড়ি ফরিদপুরে। প্রথমে স্বামীর চাকরি সূত্রে এবং পরে প্রায় স্থায়ীভাবেই তিনি পটিয়ায় বসবাস করছেন। নিজের বাসায় বসেই কেক তৈরি করেন এবং তাঁর ফেসবুক পেজ ‘মিতু’স কেক’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিয়ে, জন্মদিনসহ নানান অনুষ্ঠানের জন্য কেকের অর্ডার নেন।
গত জুলাই মাসে সাদিয়া ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশসেরা ডেজার্ট এক্সপার্টের খোঁজে’ শীর্ষক ডিপ্লোমা মিষ্টি লড়াই (সিজান-৬) প্রতিযোগিতায় ৬০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সেমিফাইনাল রাউন্ডে যান। তবে অসুস্থতার জন্য পরবর্তী ধাপগুলোতে আর অংশ নিতে পারেননি। ২০১৮ সালে অনলাইনে ডেন কেকের উদ্যোগে এবং এটিএন বাংলা মিডিয়া পার্টনারের সৌজন্যে ‘ডেজার্ট জিনিয়াস’-এর বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইন অডিশনে অংশ নেন সাদিয়া। বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে চট্টগ্রাম থেকে সাদিয়াসহ পাঁচজন প্রতিযোগী এবং একইভাবে সারা দেশ থেকে ৩২ জন প্রতিযোগী ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে ডেজার্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১২তম স্থান অধিকার অর্জন করেন।

সাদিয়া নাসরিন বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যান। চট্টগ্রাম থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি এবং পটিয়া থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাদিয়া ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পটিয়া কার্যালয় প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবে ৪১ ধরনের পিঠা নিয়ে অংশ নেন। এতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ঢাকার মালিবাগে একটি প্রাইভেট কোম্পানির পিঠা উৎসবে শতাধিক ধরনের পিঠা নিয়ে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

সাদিয়া নাসরিন বললেন,‘ প্রতি পাউন্ড কেক ৬৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করি। গ্রিন ফরেস্ট নামের কেকসহ নিজের নকশা করা বিভিন্ন কেক ক্রেতারা বেশি পছন্দ করেন। এ ছাড়া ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের নকশার আদলে কেক তৈরি করতে পারি। ভবিষ্যতে একটা শো-রুম করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তা হয়ে নিজের পায়ের দাঁড়ানোই আমার ভবিষ্যত ভাবনা।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বন্ধু বা আত্মীয় টাকা ধার চাইছে? এই ৩ কৌশলে ‘না’ বলুন

একজন সংগ্রামী নারীর ইতিকথাঃ কেক ও পিঠার রাজ্যের মহারানী মিতু

প্রকাশ সময় : 08:00:06 am, Tuesday, 27 August 2019

একজন সংগ্রামী নারীর ইতিকথাঃ কেক ও পিঠার রাজ্যের মহারানী মিতু

(মুনেম সরকার, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর ) : সাদিয়া নাসরিন মিতুকে অনেকেই চেনেন ‘ডেজার্ট এক্সপার্ট’ হিসেবে। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী ২০০৬ সালেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় সাদিয়াকে। পাঠ বিরতির কবলে পড়েন। চার বছরের বিরতির পর ঘুরে দাড়ান এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন এসএসসি পরিক্ষার জন্য। সাফল্যও আসে। ভর্তি হন স্বামীর কর্মস্থল চট্রগ্রামের পটিয়া কলেজে। তবে ঘরকন্নার পাশাপাশি পড়াশোনা করে চলতি বছরে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শুধু পড়াশোনা নয়, তিনি নানা ধরনের দেশি পিঠা তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেছেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

সাদিয়ার বাড়ি ফরিদপুরে। প্রথমে স্বামীর চাকরি সূত্রে এবং পরে প্রায় স্থায়ীভাবেই তিনি পটিয়ায় বসবাস করছেন। নিজের বাসায় বসেই কেক তৈরি করেন এবং তাঁর ফেসবুক পেজ ‘মিতু’স কেক’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিয়ে, জন্মদিনসহ নানান অনুষ্ঠানের জন্য কেকের অর্ডার নেন।
গত জুলাই মাসে সাদিয়া ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশসেরা ডেজার্ট এক্সপার্টের খোঁজে’ শীর্ষক ডিপ্লোমা মিষ্টি লড়াই (সিজান-৬) প্রতিযোগিতায় ৬০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সেমিফাইনাল রাউন্ডে যান। তবে অসুস্থতার জন্য পরবর্তী ধাপগুলোতে আর অংশ নিতে পারেননি। ২০১৮ সালে অনলাইনে ডেন কেকের উদ্যোগে এবং এটিএন বাংলা মিডিয়া পার্টনারের সৌজন্যে ‘ডেজার্ট জিনিয়াস’-এর বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইন অডিশনে অংশ নেন সাদিয়া। বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে চট্টগ্রাম থেকে সাদিয়াসহ পাঁচজন প্রতিযোগী এবং একইভাবে সারা দেশ থেকে ৩২ জন প্রতিযোগী ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে ডেজার্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১২তম স্থান অধিকার অর্জন করেন।

সাদিয়া নাসরিন বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যান। চট্টগ্রাম থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি এবং পটিয়া থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাদিয়া ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পটিয়া কার্যালয় প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবে ৪১ ধরনের পিঠা নিয়ে অংশ নেন। এতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ঢাকার মালিবাগে একটি প্রাইভেট কোম্পানির পিঠা উৎসবে শতাধিক ধরনের পিঠা নিয়ে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

সাদিয়া নাসরিন বললেন,‘ প্রতি পাউন্ড কেক ৬৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি করি। গ্রিন ফরেস্ট নামের কেকসহ নিজের নকশা করা বিভিন্ন কেক ক্রেতারা বেশি পছন্দ করেন। এ ছাড়া ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের নকশার আদলে কেক তৈরি করতে পারি। ভবিষ্যতে একটা শো-রুম করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তা হয়ে নিজের পায়ের দাঁড়ানোই আমার ভবিষ্যত ভাবনা।”