চোখ সুরক্ষিত থাকে যেসব উপায়ে
চোখের অশ্রু শুধু পানি নয় বরং তিন স্তরের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। তেল, পানি ও মিউকাস—এই তিন স্তর একসঙ্গে কাজ করে চোখকে আর্দ্র ও পরিষ্কার রাখে। কিন্তু এই ভারসাম্য নষ্ট হলেই শুরু হয় চোখ শুকিয়ে যাওয়ার রোগ শুরু হয়।
এই তিন স্তরের যেকোনো একটির ভারসাম্য নষ্ট হলেই চোখের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং ড্রাই আই-এর লক্ষণ দেখা দেয়।
ড্রাই আই সিন্ড্রোমের সবচেয়ে জটিল দিক হলো এর ধীরে ধীরে এর লক্ষণ দেখা দেয়। অনেকেই শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ ক্লান্তি বা সাময়িক অস্বস্তি মনে করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপসর্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, রোগীরা প্রায়ই চোখে বালুকণার মতো অনুভূতি, জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার মতো ব্যথা, চোখ ভারী লাগা কিংবা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পর চোখ খোলা রাখতে কষ্ট হওয়ার কথা জানান। অনেক ক্ষেত্রে চোখে চাপ বা তীব্র ব্যথাও অনুভূত হয়।

চোখে দেখার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যায়—ঝাঁপসা দেখা এবং আলোতে তাকাতেও অস্বস্থি হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক সময় চোখে অতিরিক্ত পানি পড়াও ড্রাই আই-এর একটি লক্ষণ। কারণ শুষ্কতার জ্বালায় চোখ অতিরিক্ত অশ্রু উৎপন্ন করে।
এছাড়া চোখের পাতায় প্রদাহ, কাঁপুনি, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পাপড়িতে জমাট বাঁধা বা ময়লা জমে থাকা—এসবও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
মোবাইলের স্ক্রীন যেভাবে শুষ্ক করে চোখ
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক সময়ে ড্রাই আই বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার। মোবাইল, কম্পিউটার বা গেমিংয়ের সময় মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পলক ফেলে। এতে চোখের উপরিভাগ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং অশ্রুর স্বাভাবিক স্তর ভেঙে পড়ে।
দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনে কাজ করা ছাড়াও কম ঘুম, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। ফলে চোখ ধীরে ধীরে তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়।

একইভাবে কম ঘুম, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশও চোখের ওপর চাপ বাড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অশ্রু উৎপাদন কমে যায় বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি শুষ্ক বা দূষিত পরিবেশ, এসিরুমে বেশিক্ষণ থাকা, ধোঁয়া বা রাসায়নিক গ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার এবং ল্যাসিক সার্জারির পরও অনেকের মধ্যে ড্রাই আই দেখা যায়।
ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ এবং কিছু ওষুধও এই সমস্যা বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। শরীরের কিছু রোগ যেমন ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ ,মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, ব্লেফারাইটিস বা বেলের পালসিও ঝুঁকি বাড়ায়। কিছু ওষুধ—অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ডিউরেটিক, হরমোনাল ওষুধসহ—চোখের আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে।
ভিটামিন এবং ওমেগা-৩-এর ঘাটতি, অ্যালকোহল ব্যবহার এবং ঘুমের মান খারাপ থাকাও ড্রাই আই-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বেশি ঝুঁকিতে যারা
পঞ্চাশোর্ধ নারীরা যদি দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করেন, যারা শুষ্ক পরিবেশে থাকেন এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ ড্রাই আই-এর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই সমাধান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাই আই সিন্ড্রোম পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। যারা ইতোমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, উপসর্গ অবহেলা করলে দীর্ঘ মেয়াদে চোখের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার 
















