Dhaka 12:11 am, Sunday, 31 May 2026
নোটিস :
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি নাটকীয়তার পর সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা: ১৪ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে থাকছে সরকারি ছুটি জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি
শিরোনাম
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুম কি ক্ষতিকর? চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি বগুড়া জেলা জাসাস কতৃক আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন তুরাগে ৪৪২ মোবাইল, প্রায় ৯ লাখ টাকা ও যন্ত্রাংশসহ চোরাচালান চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা রাজধানীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

দার্শনিক রিক্সাওয়ালা-আজাদ মন্ডল

পারভেজ মোশারফ :

দার্শনিক রিক্সাওয়ালা / Azad Mondal (আজাদ মণ্ডল)

‘স্যার, ভালোমন্দ মিলাইয়াই দুনিয়া। তবে, চোখের পর্দাই হইল আসল জিনিস। পর্দা ভালো হইলে দুনিয়ার বেশিরভাগ জিনিসই ভালাে আর খারাপ হইলে খারাপ।’

‘বুঝলাম চোখের পর্দাই হলো আসল । আচ্ছা, এই যে মানুষজন লকডাউন অমান্য করে রাস্তাঘাটে বের হইছে বা হয়, তুমি চোখের পর্দা যতই টেনে ভালো করো তাতে ভালো কী দেখতে পাচ্ছ বা পাও?’

‘স্যার, কিছু মনে করবেন না, আপনে বের হইছেন ক্যা?’

আমি কিছু মনে করলাম না। এই রিক্সাওয়ালাকে নিয়ে ইতিমধ্যে আমার ভিতরে একটা ঘোর কাজ করছে।চলতিপথে, সামন্য একজন রিক্সাওলার মুখে এরকম স্পষ্ট আর দার্শনিকমার্কা কথাবার্তা শুনে আমি রীতিমতো ঘেমে গেলাম। যদিও বৈশাখের আকাশ আজ বেশ ঠান্ডা। গতরাতে ভালোই ঝড়বৃষ্টি হইছে।তবে, অবচেতন মনেই আমি তাকে ছাইয়ের মধ্য রতন ভাবতে শুরু করলাম। করোনা ট্র্যাজেডিতে বেশ কয়েকদিন পর রুম থেকে বের হয়েছি জরুরী প্রয়োজনে। অনেকদিন পর বের হয়ে রাস্তাভর্তি মানুষের আনাগোনা দেখে আমার বিশেষ ভালো লাগেনি। মনের আক্ষেপ থেকেই রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলতে যেয়েই চোখের পর্দা নিয়ে টানাটানি শুরু হলো।

‘আমি তো ওষুধ কিনতে বের হয়েছি’

‘ওষুধ কিনতে বের হইছেন, তাই রিক্সায় উঠলেন ক্যান?’

‘তুমি চালাচ্ছো, তাই চড়লাম’

‘এইতো চোখের পর্দা উল্টাইয়া দিলেন স্যার!’

‘মানে?’

‘ মানে, সত্য হলো এখান থেকে ওষুধের দোকান অনেকদূর, আপনি ওতো দূর হেঁটে যেতে পারবেন না।’

‘বুঝলাম, এর সাথে রাস্তাভর্তি মানুষের সম্পর্ক কী?’

‘সম্পর্ক আছে স্যার! আপনের যেমন ওষুধের প্রয়োজনে বের হইছেন, সেভাবে মানুষের প্রয়োজনেই রাস্তা ভর্তি মানুষ। তাছাড়া, বাজারের রাস্তায় তো মানুষই থাকবো। বাজার করতে তো আর গরু ছাগল আসবো না!’

রিক্সাওয়ালাকে আর দার্শনিক ভাবতে ইচ্ছে হলো না। হঠাৎ-ই মনে হলো এর সাথে এতোক্ষণ যে প্যাচাল পাড়া হইছে তা আজাইরা। রিক্সা উঠাই ঠিক হয় নাই। আমার উচিৎ ছিলো যতদূরেই হোক হেঁটে হেঁটে ওষুধের দোকানে যাওয়া। লকডাউন কী এবং কেন, এর গুরুত্ব এদের মগজে ভালোমতো এখনও ঢুকে নাই। বিষয়টা এরা গরু ছাগলের যুক্তি দিয়ে তামশা করছে। এই মানসিকতার জন্যই দেশে বড় ধরণের মহামারি দেখা দেবে নিশ্চিত।

‘রিক্সা থামাও’
‘কেন স্যার?’
‘আমি হেঁটে যাবো’
‘রাগ হলেন?’
‘না, রিক্সা থামাও!’

রিক্সা থামালে আমি ভাড়া দিতে যেয়ে আবার থমকে গেলাম। সে রিক্সা ভাড়া কোনোমতেই নিবে না। তার যুক্তি নিদিষ্ট জায়গায় সে আমাকে নিয়ে যায় নাই, সুতুরাং ভাড়া সে নিতে পারে না। সে বলল,

‘ আপনে কেন রাগ করলেন তা আমি বুঝতে পারছি। ভয়তো স্যার সবারই আছে। আপনিই কন, কে চায় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘরের বাইর হতে? কিন্তু কোনো উপায় তো নাই। পেট তো আর পরিস্থিতি বুঝে না। সে বুঝে খালি তিনবেলা খাবার। এই খাবারের জন্যই ঘর থেকে সবাই বের হয় । আমিও হই, মাঝে মাঝে পুলিশের ধ্যাতানিও খাই।’

আমি বিশেষ কোনো কথা বলতে পারলাম না। রিক্সাওয়ালেকে আবারও দার্শনিক বলে জ্ঞান হচ্ছে। তার অন্তকোণের হাহাকার আমার হৃদয় স্পর্শ করলো। রিক্সাওলার কথার পৃষ্ঠে কথা বলার কোনো যুক্তি সহসা খুঁজে পেলাম না। রিক্সা আবার চলতে শুরু করল। আমি তাকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ।

‘ তারপরও তো কথা থাকে, রোগটাতো ছোঁয়াছে। ত্যাগ বা কষ্টতো সবার করতেই হবে। সরকারের নির্দেশ তো মানতে হবে। পরিস্থিতি সবার মিলে মোকাবেলা করতে হবে। আর এতে তো সবারই মঙ্গল।’

‘হা হা হা’

‘হাসছো কেন?’

‘সরকারের কথা বলাতে হাসলাম স্যার’

‘কেন?’

‘ আমার মনে হয় স্যার, এই যে মানুষ নিজের ভালো না বুঝে রাস্তায় বের হয়ছে, এর পিছনে সরকারের বিশেষ হাত আছে।’

‘কী বল?’

‘হ্যাঁ গভীরভাবে চিন্তা করেন, দেশ স্বাধীন হইছে আজ কতবছর হয়ে গেলো। অথচ, দেশের এই চরম মুহূর্তে আমরা ঘরে বসে থেকে খাবারের নিশ্চিয়তা পেলাম না। আপনি ঘরে বসে ওষুধের যোগান পেলেন না। আপনাকে আমাকে সবাইকে ঘরের বাইরে আসতেই হলো বা হয়। অথচ, চারপাশে তাকিয়ে দেখেন খালি বিল্ডিং আর বিল্ডিং।’

সামান্য একজন রিক্সাওয়ালার কথার তোড়ে আমি বিচলিত হলাম। তার কথা আমার কাছে বিশেষ ভাবনার মনে হলো। আমি আমার বক্তব্য গুছিয়ে বলার আগেই রাস্তার পুলিশ রিক্সা থামিয়ে দিলো। আমি ওষুদের প্রিসক্রিপশন দেখিয়ে রক্ষা পেলাম। তবে, রিক্সাওয়ালার বিপদ হলো। তার রিক্সা পুলিশ রাস্তার পাশে চিৎ করে সুয়িয়ে দিলে, রিক্সার তিনটি চাকা আকাশের দিকে চরকার মতো ঘুরতে লাগল।

আমি পুলিশকে বিনীতভাবে রিক্সা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। পুলিশ আমার অনুরোধ পাত্তা দিলো না। রিক্সাওয়ালার দিকে তাকাতেই সে চোখের ইশারাই আমাকে চলে যেতে বলল।

আমি মাথা নিচু করে নিজের রাস্তা মাপলাম। বিষাদের ক্লান্তি ভর করল মনে। স্বাধীনতার এতো বছর পরও যে আমরা অন্ধকার তিমিরে রয়ে গেছি, সেই কুটুসত্য সামান্য রিক্সাওয়ালা আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। কৌতূহল থাকা সত্ত্বেও, রিক্সাওয়ালা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানতে পারলাম না। আক্ষেপের পর আরো আক্ষেপ অন্তকোণে যোগ হলো, এতোকিছুর পর রিক্সার ভাড়াটাতো দেওয়া হলো না….

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বন্ধু বা আত্মীয় টাকা ধার চাইছে? এই ৩ কৌশলে ‘না’ বলুন

দার্শনিক রিক্সাওয়ালা-আজাদ মন্ডল

প্রকাশ সময় : 09:43:18 pm, Sunday, 14 June 2020

পারভেজ মোশারফ :

দার্শনিক রিক্সাওয়ালা / Azad Mondal (আজাদ মণ্ডল)

‘স্যার, ভালোমন্দ মিলাইয়াই দুনিয়া। তবে, চোখের পর্দাই হইল আসল জিনিস। পর্দা ভালো হইলে দুনিয়ার বেশিরভাগ জিনিসই ভালাে আর খারাপ হইলে খারাপ।’

‘বুঝলাম চোখের পর্দাই হলো আসল । আচ্ছা, এই যে মানুষজন লকডাউন অমান্য করে রাস্তাঘাটে বের হইছে বা হয়, তুমি চোখের পর্দা যতই টেনে ভালো করো তাতে ভালো কী দেখতে পাচ্ছ বা পাও?’

‘স্যার, কিছু মনে করবেন না, আপনে বের হইছেন ক্যা?’

আমি কিছু মনে করলাম না। এই রিক্সাওয়ালাকে নিয়ে ইতিমধ্যে আমার ভিতরে একটা ঘোর কাজ করছে।চলতিপথে, সামন্য একজন রিক্সাওলার মুখে এরকম স্পষ্ট আর দার্শনিকমার্কা কথাবার্তা শুনে আমি রীতিমতো ঘেমে গেলাম। যদিও বৈশাখের আকাশ আজ বেশ ঠান্ডা। গতরাতে ভালোই ঝড়বৃষ্টি হইছে।তবে, অবচেতন মনেই আমি তাকে ছাইয়ের মধ্য রতন ভাবতে শুরু করলাম। করোনা ট্র্যাজেডিতে বেশ কয়েকদিন পর রুম থেকে বের হয়েছি জরুরী প্রয়োজনে। অনেকদিন পর বের হয়ে রাস্তাভর্তি মানুষের আনাগোনা দেখে আমার বিশেষ ভালো লাগেনি। মনের আক্ষেপ থেকেই রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলতে যেয়েই চোখের পর্দা নিয়ে টানাটানি শুরু হলো।

‘আমি তো ওষুধ কিনতে বের হয়েছি’

‘ওষুধ কিনতে বের হইছেন, তাই রিক্সায় উঠলেন ক্যান?’

‘তুমি চালাচ্ছো, তাই চড়লাম’

‘এইতো চোখের পর্দা উল্টাইয়া দিলেন স্যার!’

‘মানে?’

‘ মানে, সত্য হলো এখান থেকে ওষুধের দোকান অনেকদূর, আপনি ওতো দূর হেঁটে যেতে পারবেন না।’

‘বুঝলাম, এর সাথে রাস্তাভর্তি মানুষের সম্পর্ক কী?’

‘সম্পর্ক আছে স্যার! আপনের যেমন ওষুধের প্রয়োজনে বের হইছেন, সেভাবে মানুষের প্রয়োজনেই রাস্তা ভর্তি মানুষ। তাছাড়া, বাজারের রাস্তায় তো মানুষই থাকবো। বাজার করতে তো আর গরু ছাগল আসবো না!’

রিক্সাওয়ালাকে আর দার্শনিক ভাবতে ইচ্ছে হলো না। হঠাৎ-ই মনে হলো এর সাথে এতোক্ষণ যে প্যাচাল পাড়া হইছে তা আজাইরা। রিক্সা উঠাই ঠিক হয় নাই। আমার উচিৎ ছিলো যতদূরেই হোক হেঁটে হেঁটে ওষুধের দোকানে যাওয়া। লকডাউন কী এবং কেন, এর গুরুত্ব এদের মগজে ভালোমতো এখনও ঢুকে নাই। বিষয়টা এরা গরু ছাগলের যুক্তি দিয়ে তামশা করছে। এই মানসিকতার জন্যই দেশে বড় ধরণের মহামারি দেখা দেবে নিশ্চিত।

‘রিক্সা থামাও’
‘কেন স্যার?’
‘আমি হেঁটে যাবো’
‘রাগ হলেন?’
‘না, রিক্সা থামাও!’

রিক্সা থামালে আমি ভাড়া দিতে যেয়ে আবার থমকে গেলাম। সে রিক্সা ভাড়া কোনোমতেই নিবে না। তার যুক্তি নিদিষ্ট জায়গায় সে আমাকে নিয়ে যায় নাই, সুতুরাং ভাড়া সে নিতে পারে না। সে বলল,

‘ আপনে কেন রাগ করলেন তা আমি বুঝতে পারছি। ভয়তো স্যার সবারই আছে। আপনিই কন, কে চায় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘরের বাইর হতে? কিন্তু কোনো উপায় তো নাই। পেট তো আর পরিস্থিতি বুঝে না। সে বুঝে খালি তিনবেলা খাবার। এই খাবারের জন্যই ঘর থেকে সবাই বের হয় । আমিও হই, মাঝে মাঝে পুলিশের ধ্যাতানিও খাই।’

আমি বিশেষ কোনো কথা বলতে পারলাম না। রিক্সাওয়ালেকে আবারও দার্শনিক বলে জ্ঞান হচ্ছে। তার অন্তকোণের হাহাকার আমার হৃদয় স্পর্শ করলো। রিক্সাওলার কথার পৃষ্ঠে কথা বলার কোনো যুক্তি সহসা খুঁজে পেলাম না। রিক্সা আবার চলতে শুরু করল। আমি তাকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ।

‘ তারপরও তো কথা থাকে, রোগটাতো ছোঁয়াছে। ত্যাগ বা কষ্টতো সবার করতেই হবে। সরকারের নির্দেশ তো মানতে হবে। পরিস্থিতি সবার মিলে মোকাবেলা করতে হবে। আর এতে তো সবারই মঙ্গল।’

‘হা হা হা’

‘হাসছো কেন?’

‘সরকারের কথা বলাতে হাসলাম স্যার’

‘কেন?’

‘ আমার মনে হয় স্যার, এই যে মানুষ নিজের ভালো না বুঝে রাস্তায় বের হয়ছে, এর পিছনে সরকারের বিশেষ হাত আছে।’

‘কী বল?’

‘হ্যাঁ গভীরভাবে চিন্তা করেন, দেশ স্বাধীন হইছে আজ কতবছর হয়ে গেলো। অথচ, দেশের এই চরম মুহূর্তে আমরা ঘরে বসে থেকে খাবারের নিশ্চিয়তা পেলাম না। আপনি ঘরে বসে ওষুধের যোগান পেলেন না। আপনাকে আমাকে সবাইকে ঘরের বাইরে আসতেই হলো বা হয়। অথচ, চারপাশে তাকিয়ে দেখেন খালি বিল্ডিং আর বিল্ডিং।’

সামান্য একজন রিক্সাওয়ালার কথার তোড়ে আমি বিচলিত হলাম। তার কথা আমার কাছে বিশেষ ভাবনার মনে হলো। আমি আমার বক্তব্য গুছিয়ে বলার আগেই রাস্তার পুলিশ রিক্সা থামিয়ে দিলো। আমি ওষুদের প্রিসক্রিপশন দেখিয়ে রক্ষা পেলাম। তবে, রিক্সাওয়ালার বিপদ হলো। তার রিক্সা পুলিশ রাস্তার পাশে চিৎ করে সুয়িয়ে দিলে, রিক্সার তিনটি চাকা আকাশের দিকে চরকার মতো ঘুরতে লাগল।

আমি পুলিশকে বিনীতভাবে রিক্সা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। পুলিশ আমার অনুরোধ পাত্তা দিলো না। রিক্সাওয়ালার দিকে তাকাতেই সে চোখের ইশারাই আমাকে চলে যেতে বলল।

আমি মাথা নিচু করে নিজের রাস্তা মাপলাম। বিষাদের ক্লান্তি ভর করল মনে। স্বাধীনতার এতো বছর পরও যে আমরা অন্ধকার তিমিরে রয়ে গেছি, সেই কুটুসত্য সামান্য রিক্সাওয়ালা আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। কৌতূহল থাকা সত্ত্বেও, রিক্সাওয়ালা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানতে পারলাম না। আক্ষেপের পর আরো আক্ষেপ অন্তকোণে যোগ হলো, এতোকিছুর পর রিক্সার ভাড়াটাতো দেওয়া হলো না….