Dhaka 11:06 am, Sunday, 31 May 2026
নোটিস :
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি নাটকীয়তার পর সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা: ১৪ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে থাকছে সরকারি ছুটি জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি
শিরোনাম
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুম কি ক্ষতিকর? চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি বগুড়া জেলা জাসাস কতৃক আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন তুরাগে ৪৪২ মোবাইল, প্রায় ৯ লাখ টাকা ও যন্ত্রাংশসহ চোরাচালান চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা রাজধানীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

আয় হারিয়ে চরম সংকটে ৭০% বিদেশফেরত: আইওএম

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ফেব্রুয়ারি-জুন সময়ে বিদেশফেরত ৭০ শতাংশ প্রবাসী আয়হীন হয়ে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন বলে এক জরিপে উঠে এসেছে।

দেশের ১২ জেলায় বিদেশফেরত অভিবাসীদের উপর জরিপ চালিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম এই চিত্র পেয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

আইওএম বলছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশফেরত মানুষ উপার্জনহীন হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ৫৫ শতাংশ বিদেশফেরত জানান, তাদের উপর ঋণের বোঝা রয়েছে।

এসব ঋণগ্রস্তদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুর কাছে, ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই), স্বেচ্ছা সহায়তা গোষ্ঠী ও এনজিওর কাছে ঋণগ্রস্ত এবং ১৫ শতাংশ ব্যক্তি পর্যায়ের পাওনাদারের কাছে ঋণগ্রস্ত।

ঋণগ্রস্থদের মধ্যে পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৮৬ শতাংশ বিনা সুদে ঋণ নিয়েছেন। এমএফআই, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংকসমূহ থেকে নেওয়া ৬৫ শতাংশকে ঋণের জন্য সুদ বহন করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

মহাজন বা সুদে টাকা ধার দেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ ঋণগ্রহীতাকে সুদ গুণতে হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

জরীপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ আবার অভিবাসনে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই মহামারীর আগে যে দেশে কাজ করতেন সেখানেই ফিরতে চান।

অপরদিকে ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আরো ভালো বেতনের চাকরি নিশ্চিতে তাদের দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘রিজিওনাল এভিডেন্স ফর মাইগ্রেশন অ্যানালাইসিস অ্যান্ড পলিসি (রিমেপ)’ প্রকল্পের আওতায় সরকারের সাথে সমন্বয় করে মে ও জুলাই মাসে উচ্চ অভিবাসনপ্রবণ দেশের ১২টি জেলায় একহাজার ৪৮৬ জন বিদেশফেরত অভিবাসীর উপর এই জরিপ চালায় আইওএম।

জরিপের ভিত্তিতে ‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টার্নাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশফেরত অভিবাসীরা জীবিকা, আর্থিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একেকজন অভিবাসী কর্মী গড়ে পরিবারের তিনজন সদস্যকে সহায়তা করে থাকেন। অপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক সংখ্যক জীবিকাহীন অভিবাসী কর্মী ফেরত আসায় সারাদেশে রেমিটেন্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের আয়। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার, টাকার অংকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার রেমিটেন্স এসেছে।

আর জুলাইয়ে দেশে ২৬০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ। দেশে স্বজনদের বাড়তি চাহিদা পূরণে এবং অনেকে চাকরি হারিয়ে বা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে দেশে ফিরতে জমানো সব অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে রেমিটেন্স বেড়েছে। 

রেমিটেন্সের এই রেকর্ড কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অগাস্ট মাসের রেমিটেন্সের নেতিবাচক চিত্র মিলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আইওএম বাংলাদেশ প্রধান প্রতিনিধি গিওরগি গিগাওরি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সবচেয়ে বিপদাপন্ন গোষ্ঠীদের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। বৈশ্বিক চলাচলের উপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ও মহামারী সৃষ্ট মন্দার বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী এবং রেমিটেন্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর উপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বন্ধু বা আত্মীয় টাকা ধার চাইছে? এই ৩ কৌশলে ‘না’ বলুন

আয় হারিয়ে চরম সংকটে ৭০% বিদেশফেরত: আইওএম

প্রকাশ সময় : 12:28:24 pm, Thursday, 13 August 2020
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ফেব্রুয়ারি-জুন সময়ে বিদেশফেরত ৭০ শতাংশ প্রবাসী আয়হীন হয়ে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন বলে এক জরিপে উঠে এসেছে।

দেশের ১২ জেলায় বিদেশফেরত অভিবাসীদের উপর জরিপ চালিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম এই চিত্র পেয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

আইওএম বলছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশফেরত মানুষ উপার্জনহীন হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ৫৫ শতাংশ বিদেশফেরত জানান, তাদের উপর ঋণের বোঝা রয়েছে।

এসব ঋণগ্রস্তদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুর কাছে, ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই), স্বেচ্ছা সহায়তা গোষ্ঠী ও এনজিওর কাছে ঋণগ্রস্ত এবং ১৫ শতাংশ ব্যক্তি পর্যায়ের পাওনাদারের কাছে ঋণগ্রস্ত।

ঋণগ্রস্থদের মধ্যে পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৮৬ শতাংশ বিনা সুদে ঋণ নিয়েছেন। এমএফআই, এনজিও ও বেসরকারি ব্যাংকসমূহ থেকে নেওয়া ৬৫ শতাংশকে ঋণের জন্য সুদ বহন করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

মহাজন বা সুদে টাকা ধার দেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ ঋণগ্রহীতাকে সুদ গুণতে হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

জরীপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ আবার অভিবাসনে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই মহামারীর আগে যে দেশে কাজ করতেন সেখানেই ফিরতে চান।

অপরদিকে ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আরো ভালো বেতনের চাকরি নিশ্চিতে তাদের দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘রিজিওনাল এভিডেন্স ফর মাইগ্রেশন অ্যানালাইসিস অ্যান্ড পলিসি (রিমেপ)’ প্রকল্পের আওতায় সরকারের সাথে সমন্বয় করে মে ও জুলাই মাসে উচ্চ অভিবাসনপ্রবণ দেশের ১২টি জেলায় একহাজার ৪৮৬ জন বিদেশফেরত অভিবাসীর উপর এই জরিপ চালায় আইওএম।

জরিপের ভিত্তিতে ‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টার্নাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশফেরত অভিবাসীরা জীবিকা, আর্থিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একেকজন অভিবাসী কর্মী গড়ে পরিবারের তিনজন সদস্যকে সহায়তা করে থাকেন। অপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক সংখ্যক জীবিকাহীন অভিবাসী কর্মী ফেরত আসায় সারাদেশে রেমিটেন্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের আয়। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার, টাকার অংকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার রেমিটেন্স এসেছে।

আর জুলাইয়ে দেশে ২৬০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ। দেশে স্বজনদের বাড়তি চাহিদা পূরণে এবং অনেকে চাকরি হারিয়ে বা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে দেশে ফিরতে জমানো সব অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে রেমিটেন্স বেড়েছে। 

রেমিটেন্সের এই রেকর্ড কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অগাস্ট মাসের রেমিটেন্সের নেতিবাচক চিত্র মিলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আইওএম বাংলাদেশ প্রধান প্রতিনিধি গিওরগি গিগাওরি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সবচেয়ে বিপদাপন্ন গোষ্ঠীদের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসী কর্মীরা। বৈশ্বিক চলাচলের উপর আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা ও মহামারী সৃষ্ট মন্দার বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মী এবং রেমিটেন্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর উপর।