ত্রিশ বছর আগে ভিকারুনিসা নূন স্কুলের সামনে চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় ডা. দিলরুবা নুসরাত জাহান নামে এক চিকিৎসকের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ মঙ্গলবার এ সাক্ষীকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রফিকুল ইসলাম জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করার পর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে বাদী নিহতের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরীসহ ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।
২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলার আসামিরা হলেন, নিহতের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও হাসান আলীর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদ শাহীন, শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজওয়ান এবং ডা. হাসান আলীর ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজার। সাক্ষ্য গ্রহণকালে সব আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। চার্জের আদেশের পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
ত্রিশ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই রমনা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী সগিরা মোর্শেদ মেয়েকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আনতে গিয়ে স্কুলেরর কাছেই রিকসায় থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সগিরা মোর্শেদ মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুস ছালাম চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওই ঘটনার মামলায় ডিবি মিন্টু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে ৩ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে বিচারও শুরু হয়। কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণের এক পর্যায়ে সাক্ষীরা মারুফ রেজা নামের এক ব্যক্তির নাম এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জানান। ফলে আদালত পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান মারুফ রেজা। এরপর গত বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশে মামলাটি ২৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করেন। সর্বশেষ গত বছর ১১ জুলাই হাইকোর্ট পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরই হত্যার আসল রহস্য বের হতে থাকে।
স্টাফ রিপোর্টার 












