পুষ্টিগুণে ভরপুর বিভিন্ন ধরনের বীজ এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ক্রমেই জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ এসব বীজ হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক এবং শরীরের প্রদাহ কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সাধারণত স্মুদি বা সালাদের সঙ্গে বীজ খাওয়ার চল থাকলেও অনেকের কাছে তা প্রতিদিন খেতে একঘেয়ে মনে হতে পারে। বিকল্প হিসেবে ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়ার উপযোগী বীজের চাটনি হতে পারে সহজ ও পুষ্টিকর সমাধান।
চাটনিতে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান তিসি (ফ্ল্যাক্সসিড), তিল, মেথি, শুকনো নারিকেল, কারিপাতা ও হিং—প্রতিটি উপাদানই পুষ্টিতে সমৃদ্ধ।
তিসির বীজে রয়েছে উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা খাদ্যআঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
অন্যদিকে তিলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট—যেমন সেসামিন ও সেসামোলিন। এগুলো হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শরীরের প্রদাহ কমাতেও সহায়ক।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রস্তুত প্রণালী বেশ সহজ। তিসি ও সাদা-কালো তিল শুকনো কড়াইয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। এরপর শুকনো নারকেল আলাদা করে ভেজে নিতে হবে। অন্যদিকে অল্প তেলে শুকনো মরিচ, কারিপাতা, হিং ও মেথি দানা ফোড়ন দিয়ে নিতে হবে। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে বীজের চাটনি।
এটি সাধারণ চাটনির মতো তরল নয়; বরং শুকনো গুঁড়ো ধরনের হয়, যা ভাত-ডাল বা রুটির সঙ্গে সহজেই খাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, সপ্তাহে ২-৩ দিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ পরিমাণ এই চাটনি খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের জন্যও উপকারী।
সব মিলিয়ে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজে যুক্ত করা যায় এমন এই বীজের চাটনি হতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত একটি পুষ্টিকর সংযোজন।
স্টাফ রিপোর্টার 
















