ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় শরীরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অবহেলা করি। অথচ সুস্থ শরীর ছাড়া কোনো কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। শরীর ভালো থাকলে মনও থাকে প্রফুল্ল, আর জীবনের প্রতি আগ্রহও বাড়ে। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসেই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন।
প্রথমেই আসছে খাবারের বিষয়টি। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভাত বা রুটির পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, মাছ বা ডিম রাখা উচিত। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়াও শরীরের জন্য উপকারী।
প্রকৃতির সান্নিধ্য শরীর ও মনের জন্য দারুণ উপকারী। আশেপাশে যদি কোনো পার্ক, বাগান বা খোলা জায়গা থাকে, সেখানে কিছু সময় কাটানো যেতে পারে। সবুজ পরিবেশে বসে গভীর শ্বাস নেওয়া শরীরে নতুন শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে। এই সামান্য সময়টুকু আপনাকে এনে দিতে পারে প্রশান্তি।
হাসি ও বিনোদনও শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বই, গল্প বা কমিকস পড়া, পছন্দের কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব ছোট ছোট আনন্দ শরীর-মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মন খুলে হাসলে শরীরের ভেতরেও এক ধরনের সতেজতা তৈরি হয়।
শরীর সচল রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা দৌড় বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে। সকালে কিছু সময় রোদে থাকলে শরীর ভিটামিন ডি পায়, যা হাড়কে শক্তিশালী করে। সুযোগ থাকলে সাঁতার বা খেলাধুলার মাধ্যমেও শরীরকে সক্রিয় রাখা যায়।
সবশেষে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এবং দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা দরকার। ক্লান্তি অনুভব করলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম শরীরকে আবার সতেজ করে তুলতে পারে।
সুস্থ জীবনযাপন কোনো কঠিন বিষয় নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ও যত্নই আমাদের শরীরকে রাখে সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত। আজ থেকেই শুরু হোক নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস।
কাজী আজিম সুমন 




















