Dhaka 10:08 pm, Tuesday, 20 October 2026
নোটিস :
সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিতকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে বিটিআরসি স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি নাটকীয়তার পর সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিজয় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন মোবাইল ফোনের অতি ব্যবহারে যেভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে চোখ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা: ১৪ মে’র মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে থাকছে সরকারি ছুটি
শিরোনাম
স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিন, মাদরাসায় ২১ দিনের ছুটি ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে সংসদ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বাদশা কে দুপুরে খাওয়ার পরে ঘুম কি ক্ষতিকর? চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বাবুই পাখির বাসা কেটে ছানা হত্যা, বৃদ্ধের কারাদণ্ড ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি বগুড়া জেলা জাসাস কতৃক আয়োজিত বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন তুরাগে ৪৪২ মোবাইল, প্রায় ৯ লাখ টাকা ও যন্ত্রাংশসহ চোরাচালান চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা রাজধানীতে মায়ের সামনে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিতে ঘুষ, ভিডিও ফাঁস

ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক। তার বিরুদ্ধে আছে নানা অনিয়ম-হয়রানির অভিযোগ। সম্প্রতি ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিতে ৫০০ টাকার ঘুষ দাবি করেন তিনি। সেই টাকা নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তা মুর্হুতেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনদিনব্যাপি মাহফিলের আয়োজন করেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কাবাদি রহমানিয়া নুরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা। এই মাহফিলের অনুমতি নিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেএম শাখায় আবেদন করেন মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুর রহমান। কয়েকদিন ধরে অনুমতির কাগজটির জন্য অফিস সহকারী আব্দুস সাদিককে তাগাদা দিলে তিনি অনুমতিপত্রের জন্য অর্থ দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক কাগজটির জন্য গেলে তার কাছে অর্থ দাবি করেন সাদিক। টাকা নেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কৌশলে ভিডিও করে রাখেন আব্দুল মালেক। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আব্দুস সাদিক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেএম শাখায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত। এর আগে তিনি একই কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আব্দুস সাদিককে বলতে শোনা যায়, ‘৫০০ টাকার কমে অফ টাইমে কোনো কাজ হবে না। কারণ এই শাখা থেকে আমার ইমিডিয়েটলি বদলি নেওয়ার কথা আছে। ২০০ টাকায় কোনো কাজ হবে না। আপনি যদি চান পেপারে উঠে দিবেন, ছাপিয়ে দেন আমি চাচ্ছি ওটা।’

ভুক্তভোগী আবারও জিজ্ঞাসা করেন, কত টাকা হলে কাজ হবে। উত্তরে সাদিক বলেন, ‘৫০০ টাকার কথা কইছি তোক। রাত ১০টার মধ্যে ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিয়ে তারপর বাড়ি যাব। সেই রকম লোক আমরা। দে দে টাকা দে, রাত ১০টা হইলেও কাম হইবে।’

পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ৫০০ টাকা দিলে তিনি আরও ১০০ টাকা দাবি করেন। দাবি করা আরও ১০০ টাকা দিতে না চাইলে অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক বলেন, ‘তাহলে তোর কাজও হবে না।’

এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কর্মচারি আব্দুস সাদিক আমার কাছে ঘুষ চায়। এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। আমি এ ঘটনার সমাধান চাই।’

অভিযুক্ত অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক বলেন, ‘আমি ঘুষ নেইনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে ভিডিওটি করা হয়েছে।’

নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Room

What Makes Modern Online Casinos So Popular

ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিতে ঘুষ, ভিডিও ফাঁস

প্রকাশ সময় : 04:31:33 pm, Tuesday, 7 February 2023

ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না নীলফামারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক। তার বিরুদ্ধে আছে নানা অনিয়ম-হয়রানির অভিযোগ। সম্প্রতি ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিতে ৫০০ টাকার ঘুষ দাবি করেন তিনি। সেই টাকা নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তা মুর্হুতেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনদিনব্যাপি মাহফিলের আয়োজন করেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কাবাদি রহমানিয়া নুরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা। এই মাহফিলের অনুমতি নিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেএম শাখায় আবেদন করেন মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুর রহমান। কয়েকদিন ধরে অনুমতির কাগজটির জন্য অফিস সহকারী আব্দুস সাদিককে তাগাদা দিলে তিনি অনুমতিপত্রের জন্য অর্থ দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক কাগজটির জন্য গেলে তার কাছে অর্থ দাবি করেন সাদিক। টাকা নেওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কৌশলে ভিডিও করে রাখেন আব্দুল মালেক। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আব্দুস সাদিক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেএম শাখায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত। এর আগে তিনি একই কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে আব্দুস সাদিককে বলতে শোনা যায়, ‘৫০০ টাকার কমে অফ টাইমে কোনো কাজ হবে না। কারণ এই শাখা থেকে আমার ইমিডিয়েটলি বদলি নেওয়ার কথা আছে। ২০০ টাকায় কোনো কাজ হবে না। আপনি যদি চান পেপারে উঠে দিবেন, ছাপিয়ে দেন আমি চাচ্ছি ওটা।’

ভুক্তভোগী আবারও জিজ্ঞাসা করেন, কত টাকা হলে কাজ হবে। উত্তরে সাদিক বলেন, ‘৫০০ টাকার কথা কইছি তোক। রাত ১০টার মধ্যে ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিয়ে তারপর বাড়ি যাব। সেই রকম লোক আমরা। দে দে টাকা দে, রাত ১০টা হইলেও কাম হইবে।’

পরে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ৫০০ টাকা দিলে তিনি আরও ১০০ টাকা দাবি করেন। দাবি করা আরও ১০০ টাকা দিতে না চাইলে অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক বলেন, ‘তাহলে তোর কাজও হবে না।’

এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কর্মচারি আব্দুস সাদিক আমার কাছে ঘুষ চায়। এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। আমি এ ঘটনার সমাধান চাই।’

অভিযুক্ত অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক বলেন, ‘আমি ঘুষ নেইনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে ভিডিওটি করা হয়েছে।’

নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।